ভারতের জাতীয় প্রতীকগুলি দেশের
ভাবমূর্তির বর্ণনা দেয় এবং এগুলি খুবই
যত্ন সহকারে মনোনীত হয়েছে।
● জাতীয়
পশু বাঘ – ক্ষমতার প্রতীকস্বরূপ,
● জাতীয়
ফুল পদ্ম – শুদ্ধতার প্রতীকস্বরূপ,
● জাতীয়
বৃক্ষ বট – চিরন্তনতার প্রতীকস্বরূপ,
●জাতীয় পাখি ময়ূর – কমনীয়তার
প্রতীকস্বরূপ
এবং ●জাতীয় ফল আম –
ভারতের ক্রান্তীয় জলবায়ুর
প্রতীকস্বরূপ।
তেমনভাবেই, আমাদের
জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গীত হল
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই
প্রেরণার উৎস।
●ভারতের জাতীয়
স্তম্ভটি চারটি সিংহের চার দিকে মুখ
করে দন্ডায়মান অবস্থায় রচিত, যেগুলি
ক্ষমতা, সাহস, গর্ব ও আস্থার
প্রতীকস্বরূপ।
●হকি যখন তার চরম শিখরে
ছিল তখন এটি ভারতের জাতীয় খেলা
হিসাবে গৃহীত হয়। এখানে ভারতের
জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে আরোও বেশ
কিছু তথ্য বর্ণনা করা হয়েছে।
ॐ卐
ভারতের জাতীয় প্রতীকের তালিকা▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
■ভারতের জাতীয় পাখি :•••••••••••••••••••••••••
১৯৬৩ সালে ময়ূর, ভারতের জাতীয়
পাখি হিসাবে ঘোষিত হয়, কারণ এটি
সামগ্রিকরূপে ভারতের প্রচলিত
রীতিনীতি ও সংস্কৃতির এক অংশ
ছিল। ময়ূর হল লাবণ্য ও সৌন্দর্য্যের
প্রতীক। ময়ৃরকে জাতীয় পাখি রূপে
মনোনীত করার আরেকটি কারণ হল
সারা দেশ জুড়ে তার উপস্থিতি।
এমনকি সাধারণ মানুষও পাখির সঙ্গে
খুব বেশিই পরিচিত। তাছাড়াও, এখনও
পর্যন্ত আর অন্য কোনও দেশে তাদের
জাতীয় পাখি হিসাবে ময়ূর ছিল না।
ময়ূর এই সমস্ত কিছুকে পরিপূর্ণ করেছে,
অতঃপর ভারতের জাতীয় পাখি হয়ে
উঠেছে।
●ভারতের জাতীয় পশু :••••••••••••••
বাঘ, জঙ্গলের রাজা হিসাবে পরিচিত
এবং ভারতের বন্যপ্রাণী সম্পদকে
প্রদর্শিত করে। এছাড়াও, শক্তি, দ্রুততা
ও ক্ষমতা বাঘের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি।
১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে
বাঘেদের সংরক্ষণে, ব্যার্ঘ্র প্রকল্পের
প্রবৃত্তির সঙ্গে বেঙ্গল টাইগার (পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন)
ভারতের জাতীয় পশু হিসাবে ঘোষিত
হয়। এর আগে, সিংহ ভারতের জাতীয়
পশু ছিল।
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত :•••••••••••• ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হল একটি স্তোত্রের হিন্দি সংস্করণ, যা প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় রচনা করেছিলেন। এটি ১৯৫০ সালের ২৪- শে জানুয়ারী ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়। যেহেতু সমাজের অ- হিন্দু সম্প্রদায় থেকে বাংলা গীত “বন্দে মাতরম”-এর বিরোধিতা করা হয়েছিল সেহেতু “জন গণ মন” ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।
ভারতের জাতীয় ফুল :•••••••••••• ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনীতে পদ্ম ফুল একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। এটি দেবী লক্ষীর পুষ্প এবং ধন- সম্পদ, সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবনশীলতার প্রতীকস্বরূপ। এছাড়াও, এটি খুব অনন্যভাবে জলের অনেক উপর পর্যন্ত দীর্ঘ বৃন্তের সঙ্গে মলিন জলে বেড়ে ওঠে এবং বৃন্তের শীর্ষ-ডগায় ফুলটি প্রস্ফুটিত হয়। পদ্ম ফুল অপবিত্রতা- অশুদ্ধতা থেকে অস্পর্শিত থাকে। এটি বিশুদ্ধতা, কৃতিত্ব, দীর্ঘ আয়ু ও সৌভাগ্যের প্রতীকস্বরূপ।
ভারতের জাতীয় ফল :••••••••••••• আম ভারতে প্রকৃতিজাত এবং এইভাবে যথার্থরূপে ভারতীয়তার সঙ্গে জড়িত। আদি-অনাদিকাল থেকেই, ভারতে আমের ফলন হয়। পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকেই অনেক প্রখ্যাত কবি আমের মাধুর্যতা সম্পর্কে সংজ্ঞায়িত করেছেন। বিখ্যাত মুঘল সম্রাট আকবর দ্বারভাঙ্গার লক্ষী বাগে প্রায় ১০০,০০০ আম গাছের চারা রোপণ করেছিলেন।
ভারতের জাতীয় গীতি :•••••••• ভারতের জাতীয় গীতিটি সংস্কৃত ভাষায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারা নিবন্ধিত হয়েছিল। এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু মুক্তি যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রাথমিকভাবে “বন্দে মাতরম্” ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ছিল, তবে স্বাধীনতার পর “জন গণ মন” জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়। এটি করা হয়েছিল কারণ ভারতের অ-হিন্দু সম্প্রদায় “বন্দে মাতরম”-কে পক্ষপাতিত্ব হিসাবে বিবেচিত করেন। এই সম্প্রদায়গুলি উপলব্ধি করেছিল যে গানটিতে দেশ “মা দূর্গা”-র দ্বারা প্রতিরূপিত হয়। অর্থাৎ এই কারণেই, এটিকে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত না করে জাতীয় গীতি হিসাবে গড়ে তোলা হয়।
ভারতের জাতীয় খেলা :•••••••••• ভারতে ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা স্বত্ত্বেও, এখনও হকি ভারতের জাতীয় খেলা। যখন হকি জাতীয় খেলা হিসাবে ঘোষিত হয় তখন এটি খুবই জনপ্রিয় ছিল। ১৯২৮-১৯৫৬ সাল পর্যন্ত খেলাটির স্বর্ণযুগ ছিল, যখন ভারত ওলিম্পিকে পরপর ৬-টি স্বর্ণ পদক জিতেছিল। হকি জাতীয় খেলা হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল কারণ সেইসময় তার অপ্রতিম স্বাতন্ত্র্যতা ও অনুপম প্রতিভার দরুণ। সেই সময় ভারত ২৪-টি ওলিম্পিক ম্যাচ খেলেছিল এবং তার সবকটিই জিতেছিল।
ভারতের জাতীয় বৃক্ষ : বট গাছ অনন্ত জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ তার সদা-প্রসারিত শাখা- প্রশাখা। গাছের বিশাল কাঠামো ও তার গভীর শিকড় দেশের ঐক্যতার প্রতীকস্বরূপ। বৃক্ষটি কল্পবৃক্ষ নামে পরিচিত, যার অর্থ হল ‘ইচ্ছা পূরণের বৃক্ষ’। বট বৃক্ষ নামেও অভিহিত কারণ বট বৃক্ষের অপরিমেয় ঔষধি বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়াও বট বৃক্ষ বিভিন্ন ধরনের পশু ও পাখিদের আশ্রয় প্রদান করে, যা ভারত এবং তার বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষদের
প্রতিনিধিত্ব করে।
■●●ভারতের জাতীয় স্তম্ভ :•••••
সারনাথে অবস্থিত অশোক স্তম্ভ
(সিংহ রাজধানী) হল ভারতের জাতীয়
স্তম্ভ। এটি একটি বৃত্তাকার
স্তম্ভশীর্ষফলকের উপর চারদিকে মুখ
করে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি এশীয়
সিংহের সমন্বয়ে গঠিত।
স্তম্ভশীর্ষফলকটিতে একটি হাতি,
ReplyDeleteএকটি ঘোড়া, একটি ষাঁড় ও একটি
সিংহের ভাস্কর্য্য রয়েছে। সেগুলি
মাঝখানে চক্র দ্বারা বিভাজিত।
জাতীয় স্তম্ভটি একটি পূর্ণ প্রস্ফুটিত
উল্টানো পদ্ম ফুলের ওপর দাঁড়িয়ে
রয়েছে।
ॐ卐সত্যের জয় হোকॐ卐