সনাতন ধর্মে মৃতদেহ পোড়াবার
তিনটি কারন আছে।
১) আধ্যাত্মিক কারণঃ
আমরাসনাতনধর্মেরঅনুসারিরা
পুনর্জন্মেবিশ্বাসী।এই ত্রিতাপদগ্ধ
সংসারে পুনরায়জন্মগ্রহনকরে
মানুষদুঃখজ্বালাভোগকরুক এটা কেউ
চাই না। যে দেহেতিনি এতদিন বাস
করেছেন, তাকেসাজিয়ে গুছিয়ে
রেখেছেন, পৃথিবীরযাবতীয় সুখের
স্বাদ তাকেদিয়েছেনসে দেহের
প্রতি আকর্ষণ ও মায়াথাকা
স্বাভাবিক। দেহের প্রতিআকর্ষণে
পুনঃ দেহ ধারনে তারআকাঙ্ক্ষা
জাগতে পারে, ঐআকাঙ্ক্ষা দূর করার
উদ্দেশেইআকর্ষণেরবস্তু দেহটিকে
পোড়ানো হয়।
২) সামাজিক কারণঃ
আর্যঋষিদেরভবিষ্যৎ চিন্তা এতে
প্রতিফলিতহয়েছে।মানুষ সৃষ্টি হবে
এবংএমনএকদিন আসতে পারে
যখনস্থানাভাবদেখা দেবে। মানুষের
দেহ না পুড়িয়েমাটিতে পুঁতে রেখে
দিলে ক্রমশমাটিতে রাখার জায়গার
অভাবদেখা দিতে পারে। এই
কারনেই দেহপোড়াবার বাবস্থা।
৩) বৈজ্ঞানিক কারণঃ
মানুষবিভিন্নকারনে মৃত্যুবরণ করে। এর
মধ্যরোগে মৃত্যুইসর্বাধিক। এই সকল
মৃতদেহেপচন ধরলেপরিবেশে বিভিন্ন
রোগ জীবাণুছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা
থাকে।এসবচিন্তা থেকেই আর্য
ঋষিগণ শবপোড়াবার বিধি দিয়েছে।
মুখাগ্নি করার কারণঃআমরা সনাতন
ধর্মের অনুসারিবিশ্বাসকরি যে, মানুষ
মৃত্যুর পরস্বর্গবাসী হয়অথ্যাৎ
দেবলোকে যায়। কিন্তু,তিনিস্বর্গে
বা দেবলোকে যাবেনকিভাবে?
বৈদিক নিয়ম অনুসারেদেবলোকে বা
স্বর্গলোকেপাঠাতেহলে দেবতাদের
পুরোহিতঅগ্নিতেআহুতি দিতে হয়।
অগ্নিদেবই সেঅর্চনাবা আহুতি
দেবলোকে নিয়ে যান।তাইযিনি
মৃত্যুবরণ করেছেন তারপ্রাণবায়ুঅগ্
নিদেবকে আহুতি না দিলে
তিনিকি করে স্বর্গবাসী হবেন?
প্রানবায়ু মুখদিয়ে বের হয় বলে মুখে
অগ্নিসংযোগকরে মন্ত্র পাঠ করতে
হয়-“ওঁ কৃত্বা তু দুষ্কৃতং কর্মংজানতা
বাপ্যজানতা।মৃত্যুকাল বশং প্রাপ্য
নরংপঞ্চত্বমাগতম্ধর্মাধর্ম সমাযুক্তং
লোভ মোহসমাবৃতম্দহেয়
ং সর্বগাত্রানি দিব্যান্লোকান্স
গচ্ছতু”।অনুবাদঃতিনি জেনে বা না
জেনেঅনেক দুষ্কর্ম করে
থাকতেপারেন।কালবশে মানুষ মৃত্যুবরণ
করেথাকে। এদেহ ধর্ম, অধর্ম, লোভ,
মোহপ্রভৃতিদ্বারা আচ্ছাদিত ছিল।
হেঅগ্নিদেব,আপনিতার সকল দেহ দগ্ধ
করেদিব্যলোকে নিয়ে যান।
No comments:
Post a Comment