Thursday, 9 July 2015

Dada দাদাদের অসাম্প্রদায়িক অনুভূতি

ক্রিকেটার সৌম্য সরকার আর লিটন দাসকে মালাউন বলে গালি দিয়েছে। এতে দাদাদের অসাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে চরম লেগেছে। দাদারা প্রতিবাদের এনড্রয়েড মিসাইলখানা হাতে নিয়ে নেমেছেন। একের পর প্রতিবাদী স্ট্যাটাস প্রসব করে দিয়েছেন। দাদারা সুবিধামতো এক একটা বিশাল অসাম্প্রদায়িক যোদ্ধা তাল পাতার সেপাই! অমুক জায়গায় সংখ্যালঘুর ভিটেমাটি দখল, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, মেয়ে অপহরণ করেছে, মন্দির ভেঙে দিয়েছে, একের পর এক সংখ্যালগু পরিবার দেশছাড়া....... দাদারা তখন নীরব থাকেন। আমি-তুমি প্রেমের কবিতা লিখেন ফেসবুকে। "আকাশে চাঁদ উঠেছে, বাগানে ব্যাঙ ডাকছে" --টাইপের প্রেমের কবিতা। দাদারা সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে লিখতে লজ্জা পান। পাছে আবার সাম্প্রদায়িক ট্যাগ খান। মান ইজ্জত চলে যাবে তো। দাদারা শহুরে মানুষ। গায়ে যদি কাঁদা লাগে! আজ সৌম্য আর লিটনকে নিয়ে সবাই বলছে। দাদারাও চান্সে ফর্মে ফিরে এলেন। বাতাসে একের পর এক তরবারি চালচ্ছেন। আচ্ছা বাংলাদেশের কোন অমুসলিমটি জীবনে মালাউন গালি শুনেনি? সৌম্য সরকার গালি খাওয়ায় দাদারা এত কষ্ট পেয়ে গেলেন? ক্রিকেটে ভালো লাইক পড়ে যে! একদম সেইফটি জোনের স্ট্যাটাস। ওহ হ্যাঁ, দাদারা আবার ভীষণ মানবতাবাদী। দাদারা নিজ সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন নিয়ে কিছু লিখবেন না। কিন্তু ফিলিস্তিন নিয়ে ঠিকই হ্যাশট্যাগ দিয়ে দেবে। এতে দাদাদের সামাজিক স্ট্যাটাস ১০ হাত উপরে উঠে যায় একলাফে। এই দাদারা শহরে থাকেন। বিশাল টাকা পয়সাওয়ালা লোক। দাদাদের এক ট্যাং ভারতে দেওয়া। জায়গা সম্পত্তি ভারতে কেনা আছে সব। দাদারা হালকা পায়খানা ছুটলেও ভারত চলে যান চিকিৎসা করাতে। দাদাদের ছেলেমেয়েরা আবার ভীষণ দেশপ্রেমিক! ক্রিকেট আসলে তারা ইন্ডিয়ানদের মা বোন ধরে গালাগালি করে। ওদিকে তলে তলে ইন্ডিয়াতে বাড়ি নির্মাণ হয়ে যাচ্ছে। ওহ হ্যাঁ, দাদারা পূজাও করেন। এই পূজা মন্ডপের দেবী দূর্গার সাথে ঐ মন্ডপের দেবী দূর্গার প্রতিযোগিতা চলে। এই মন্ডপে দূর্গা মা হাঁটলে ঐ মন্ডপে পাতাল ফাইটা উঠে। দাদারা আত্মরক্ষায় চাপাতির ব্যবহার না জানলেও দাদাদের দূর্গা মা চাপাতির ব্যবহার জানেন। কোন কোন মন্ডপে মা দূর্গা চাপাতির ওল্ড ভার্সন খড়গ দিয়ে অসুরের মাথা কাটে। এই দূর্গাকে হাঁটাতে গিয়ে, পাতাল থেকে তুলতে গিয়ে কিংবা অসুরের মাথা কাটাতে গিয়ে দাদারা তিন দিনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন। কিন্তু নির্যাতিত হিন্দুদের জন্য কিছু করতে বলেন। দাদারা আমতা আমতা করেন;- হুম....উম...গভর্নমেন্ট তো আছে! তারা দেবে! ব্যবসার অবস্থা ভালো না। সামনের মাসে একবার ইন্ডিয়া যেতে হবে! দাদারা পলিটিক্স করেন না তা কিন্তু নয়! দাদাদেরও কিন্তু সংগঠন আছে। কি কি উদযাপন পরিষদ! কি কি ঐক্য পরিষদ। যাদের কাজ হচ্ছে দালালি করা এবং প্রচার করা;- "আওয়ামিলীগের আমলে হিন্দুরা ভালো ছিল, আছে এবং ভালো থাকে। বিএনপি জামাতের আমলে নির্যাতিত হয়।" আরো একটা কাজ এই সংগঠনগুলো করে সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়(সেলাম ঠুকা)। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের ব্যস্ত দিনের একটি হিন্দুদের জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন। কি সুন্দর সুন্দর পোশাক পড়া দাদা দিদিরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে হাসি হাসি মুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। বাইরের দেশের মানুষ টেলিভিশনে এই দৃশ্য দেখছেন। আহা বাংলাদেশ কত অসাম্প্রদায়িক দেশ! আমি জীবনে কোনদিন সার্কাস দেখিনি। ক্লাউন বা, ভাঁড়ও দেখিনি। এই সৌহার্দ্য আর শুভেচ্ছা বিনিময় দেখে আমার সার্কাস আর ভাঁড় দেখতে না পারার অতৃপ্তি মুছে যায়। ওহ হ্যাঁ, দাদারা পরিষ্কার পরিছন্ন মানুষ। নিচু(!) গোত্রের যেমন জেলে, হাঁড়ি, কুমার এসব মানুষ হলে দাদারা একপাতে বসে খেতে পারেন না। জাইল্লা আবার কোন জাত হলো! ছে ছে ছে! অথচ কোন মুসলিম আওয়ামিলীগ, বিএনপি কিংবা জামাত শিবিরের নেতা আসুক দাদারা অমনি গলে যান। দাদাদের বিনয় গলে গলে পড়ে। নমষ্কার দাদা নমষ্কার! সালাম দাদা! দাদারা নিজ হাতে তুলে খাবার খাওয়ান। সম্ভব হলে নিজ হাতেই খাইয়ে দিতেন। কিন্তু নেতারা বুড়ো, ব্যাপারটা অড দেখাবে। দাদারা গিরগিটির মতো রং পাল্টায়। তারা নিজেদের চালাক মনে করে। আদতে সব এক একটা খচ্চরের বাচ্চা। বাড়িঘর পোড়ানো দেখে না, দেশ ছাড়া করা দেখে না। ক্রিকেটারকে গালি দিয়েছে আর সাথে সাথে দাদারা গোসসা করেছেন পরিস্থিতি বুঝে। যেদিকে বৃষ্টি, সেদিকে ছাতা! দাদারা আবার আমাকে উপদেশ দিতে আসেন। এসব লিখে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবেন না। মুসলিম দেশে একটু রয়েসয়ে থাকতে হয়। এসব লিখে কেন মহাভারত অশুদ্ধ করছেন? চেপে যান, ভালো থাকেন। ভুলে যাবেন না হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই! ভাই ভাই হলেই ভালো হতো। কিন্তু সেটা হয় না। আর আমিও কিছু ভুলি না। আমার সবই মনে থাকে। এই স্ট্যাটাস তাদের জন্য যারা সব মনে রেখেও নিজে ভুলে যাওয়ার ভান করে।

No comments:

Post a Comment