অপদার্থ রাজ্য নেতৃত্বের কব্জায় থেকে দলের এমন দশা হয়েছে যে হাজার চেষ্টা করলেও ২০১৬তে ভাল ফল করা অসম্ভব আর এটা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বুঝে গেছে। তাই, রাজ্যসভার পাটিগণিতের অঙ্ক মিলাতে তারা কখনই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোন জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার অনুমতি দেবেনা। এটা এই রাজ্যের বিজেপি সমর্থকদের পছন্দ হোক আর নাই হোক, এটাই বাস্তব। রাহুল সিনহার মত নেতৃত্বকে সামনে রেখে নিজেদের মুখ বাঁচানোর চেষ্টা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
এই রাজ্যে বিজেপির ভাগ্যে শিকে ছিঁড়তে পারে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়। গত নির্বাচনে ২৮২টা আসন পাওয়ার পথে বিজেপি ইতিমধ্যেই তার প্রভাবশালী অঞ্চলগুলি থেকে সর্বাধিক আসন পেয়ে গেছে, সেখান থেকে বাড়তি কিছু আসন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে বরং অ্যান্টিইনকাম্ব্যান্সির কারনে সেখানে কিছু আসন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই কমে যাওয়া আসনের ঘাটতি পূরন করার জন্যে বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মত রাজ্যগুলি, যেখানে তাদের আসন প্রায় নেই বললেই চলে, সেখানে জোর লাগাতে হবে।
এমতাবস্থায় দেয়ালের লিখন স্পষ্ট যে আগামী কয়েকবছর, যে যতই হাত-পা ছোড়াছুড়ি করুক না কেন, রাজ্য বিজেপির কর্মপদ্ধতিতে কোন র্যাডিকাল পরিবর্তন আসবেনা। এই রাজ্যের হিন্দুরা বিজেপিকে নিয়ে যতই আশায় বুক বাঁধুক না কেন, তাদের স্বপ্নপূরন হবার কোন আশু সম্ভাবনা নেই। রামমন্দির আন্দোলন নিয়ে সুষমা স্বরাজের সেই কথা মনে নেই যে "একটা চেককে দুবার ভাঙানো যায়না"। হ্যাঁ, হিন্দুত্ব হল বিজেপির কাছে একটা চেক মাত্র, ক্ষমতায় পৌছানোর জন্যে সেটা সে কখন ব্যবহার করবে সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তার।
No comments:
Post a Comment