Thursday, 23 July 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৯

এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৯ আমরা দুটি অসামান্য কর্মকান্ড গ্রহন করেছি, যা দেশকে বদলে দেবে। আজকে আমাদের আন্দোলন ‘ভৈরব’ উপজেলার নাম বদলের; আগামিকাল আন্দোলন ‘শ্যামাসিদ্ধি’ গ্রামের নাম বদলের; আমরা দুনিয়াকে খোলনেলচেসহ বদলে দেব। ভৈরব আর শ্যামাসিদ্ধি দুটি নামই আমার ছোটোবেলা থেকে প্রিয়, কিন্তু তাতে কি; ভৈরব আর শ্যামসিদ্ধি দুটিই পৌত্তলিক নাম, মালাউন নাম, এই নাম আমি আর মানতে পারি না, এটা শিরক; আর শ্যামসিদ্ধির ওই মঠটা, যেটিকে দূর থেকে একবার না দেখলে আমার ঘুম হত না, ওটিকে আমার মনে হয় ইছলামের ওপর পাক স্তানের উপর আমার দিলের উপর একটা শরিকের আঘাত মতো- মঠটি ভেঙ্গে একটা মসজিদ তৈরি করতে হবে; ওখানে আমি একটি আল আকসা বা বায়তুল মোকাররাম দেখতে চাই। ওই মঠটির দিকে তাকালেই আমার এক সময়ের প্রিয় পরম শ্রদ্ধেয় মহান অদ্বিতীয় সানগ্লাস জেনারেল নেতাকে মনে পড়ে। তিনি আমার হৃদয়ে সব সময় আছেন, সব সময় থাকবেন। আমি তাঁর দলে যোগ দিই নি, দিতে পারি নি, দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু আমার সাম্যবাদী নেতাদের পায়ের চাপে বার বার পিষ্ট হয়ে গেছিয়ালাম; তিনি পল্টন ময়দানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, জ্বালাময়ী বক্তৃতায় আমরা কাঁপছিলাম, তিনি হঠাত করে বক্তৃতা থামিয়ে ডান হাতের তর্জনি আমাদের বায়তুল মোকরামের দিকে স্থির করে রাখেন। তিনি স্তব্ধ হয়ে থাকেন কয়েক মিনিট, আমরাও স্তব্ধ হয়ে যাই, তাঁর আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকি, নিশ্চয় ওই আঙুল কোনো গভীর বানী প্রকাশ করছে। তিনি স্তব্ধ হয়ে থাকেন কয়েকমিনিট, আমাদের মনে হয় তিনি হাজার হাগার বছর ধরে স্তব্ধ হয়ে আছেন, তাঁর বদলে কথা বলছে তাঁর জ্যোতির্ময় তর্জনি। আমি তাঁর তর্জনির ভাষায় কাঁপতে থাকি। একসময় তিনি বলে ঊঠেন, ‘চ্ছি-ল-না’। আমরা বিস্মিত শিহরিত হয়ে ভাবতে থাকি কি ছিল না? আমরা কি করে জানবো? জানাবেন তিনি, যিনি জানেন, জানার সুস্ত ক্ষমতা যার। তিনি বলেন। ‘চ্ছি-ল-না, আল্লাহু আকবর ছিল না; বায়তুল মোকাররামের উপরে আপনারা যে ‘আল্লহ আকবর’ দেখতেছেন, তা চ্ছি-ল-না; আল্লালু আকবর ওয়াজ নত দেয়ার।’ আমাদের বুক থেকে একটা পাহাড় নেমে যায়, আমরা নিশ্বাস নিই। আমরা বোধ করি তিনি কত মহান, কত অসাধারন, তিনি কত বড় দ্রষ্টা; মহান নেতার তা চোখে পড়েছে, তিই সেখানে আল্লা আকবর বসিয়েছেন, যা রাতে জ্বলজ্বল করে রাহমানির রাহিমের গৌরব ঘোষনা করছে; মহান নেতা ইছলাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন; তাঁর থেকে বেশি প্রতিষ্ঠিত করেছেন আমাদের। মহান আল্লাতালা নিশ্চয় তাকে এখন জান্নাতুল ফেরদাউসে রেখেছেন। তিনি হয়তো সেখানেও সানগ্লাস পররে তাকিয়ে আছেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল্লহু আকবরের দিকে, আর আমাদের দিকে , আমরা যারা পাক স্তান প্রতিষ্ঠা করব, পাক সার জমিন গাইব। ওই ঘটনা আমার মনে দাগ কেটে আছে; আমি শ্যামসিদ্ধির মঠটি ভেঙ্গে ফেলব বা সেটিকে মসজিদ বানিয়ে বড়ো বড়ো অক্ষরে লিখব ‘আল্লহু আকবর’, যা রাহমানির রাহিমও দেখতে পাবেন। তিনি অবশ্য সবই দেখেন, একটি পোকাও তাঁর চোখের বাইরে নয়। তবে মালাউনদের দু-একদিন সময় দিতে পারি, একটু দয়া করতে পারি। যদিও আন্দোলন আমাদের আজই করতে হবে, দয়া করে ওদের একটু সুযোগ দিতে পারি। কি সুযোগ দেবো? গতকাল রাতে আমার জিহাদিদের সাথে আমি আলাপ করেছি, তখন ভিডিয়োতে এক্স এক্স এক্স চলছিলো, ডেঞ্জারাস জিনিশ, লাস্ট ফর ডগজ; তারপর ইন্ডিয়ান জিনিশ-এখন আর আমরা আর সাদা বেহায়া মেয়েগুলোর চোষাচুষি, পাছা মারামারি, ডাবল ট্রিপল স্ক্রু মারা দীখে এক্সাইটেড হই না, অনেক দেখেছি, সবই একইরকম, পানসে, রাবিশ; আমাদের পছন্দ মালাউন এক্স এক্স এক্স, সাউথ ইন্ডিয়ান আর মুম্বাইয়ের এক্স এক্স এক্স দেখে আমরা সঙ্গে সঙ্গে খাড়া হই, সাদা মাইয়াগুলো সেখলে হই না, ওইগুলোর দেহে কোনো স্বাদ নেই, ওগুলো ব্লাডার আর পাম্পারের অটমেটিক মেশিন; ওগুলো দেখতে দেখতে আমাদের মনে পড়ছিল দুর্গা, বকুলমালা, কনকলতা, রমা, সীতা, মাধুরী, আর কি কি যেন নাম ওদের, সেই ডবকা মেয়েগুলোকে, যদি ওদের এবং আরো কয়েকটিকে পাই, একা আমি পেলেত হবে না, তালেবাম মোঃ হাফিজুদ্দিন, জিহাদি মোঃ কেরামত আলি, জিহাদি মোঃ মোস্তাফা, জিহাদি মোঃ আকবর আলিকেও ভাগ দিতে হবে, তাহলে মালাউনদের কয়েকটি দিন দিতে পারি, কয়েকটি দেন।

No comments:

Post a Comment