Monday, 13 July 2015

বন্দে মাতরম্ (সংস্কৃত : वन्दे मातरम्)

বন্দে মাতরম্ ( সংস্কৃত : वन्दे मातरम् ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৮২ সালে রচিত আনন্দমঠ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি গান। সংস্কৃত - বাংলা মিশ্রভাষায় লিখিত। এই গানটি দেবী দুর্গা র বন্দনাগীতি হিসাবে প্রচার করা হয় এবং বঙ্গদেশের একটি জাতীয় মূর্তিকল্প। শ্রীঅরবিন্দ বন্দে মাতরম্ গানটিকে "বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত" ("National Anthem of Bengal") বলে উল্লেখ করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গীত হয় বন্দে মাতরম্ ; উক্ত অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে জনগণমন- অধিনায়ক জয় হে ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করলে বন্দে মাতরম্ গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯০৯ সালে শ্রীঅরবিন্দ Mother, I bow to thee! শিরোনামে বন্দে মাতরম্ গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। ইংরেজি ভাষায় এই অনুবাদটি বহুল প্রচলিত।একাধিকবার এই গানটিতে সুরারোপ করা হয়। বন্দে মাতরম্ সঙ্গীতের প্রাচীনতম প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিংটি ১৯০৭ সালের। সমগ্র বিংশ শতাব্দীতে গানটি প্রায় একশোটি ভিন্ন সুরে রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০০২ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দশটি জনপ্রিয় গান নির্বাচনের একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা চালায়। এই সমীক্ষায় ৭০০০ গানের মধ্যে থেকে এ আর রহমান সুরারোপিত বন্দে মাতরম্ গানটি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয়তম গান নির্বাচিত হয়। ॐ卐 বন্দে মাতরম্♡♡♡♡ সুজলাং সুফলাং♡♡♡ মলয়জশীতলাং♡♡♡ শস্যশ্যামলাং মাতরম্।♡♡♡♡ শুভ্র-জ্যোৎস্না-পুলকিত-যামিনীম্♡♡♡ ফুল্লকুসুমিত-দ্রুমদলশোভিনীম্,♡♡♡ সুহাসিনীং সুমধুরভাষিণীম্♡♡♡♡ সুখদাং বরদাং মাতরম্।♡♡♡♡ সপ্তকোটীকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে♡♡♡♡♡ দ্বিসপ্তকোটীভুজৈর্ধৃতখর- করবালে,♡♡♡♡ অবলা কেন মা এত বলে।♡♡♡♡ বহুবলধারিণীং♡♡♡ নমামি তারিণীং♡♡ রিপুদলবারিণীং মাতরম্।♡♡♡♡ ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিনী♡♡♡ কমলা কমল-দলবিহারিণী♡♡ বাণী বিদ্যাদায়িনী♡♡♡♡ নমামি ত্বাং♡♡♡ নমামি কমলাম্♡♡♡ অমলাং অতুলাম্♡♡ সুজলাং সুফলাম্♡♡ মাতরম্♡ বন্দে মাতরম্♡♡ শ্যামলাং সরলাং♡♡ সুস্মিতাং ভূষিতাম্♡♡ ধরণীং ভরণীম্ মাতরম্।♡♡♡ বন্দেমাতরম্ এর অর্থ ভারতমায়ের বন্দনা করি।ভারতমাতাকে এখানে শক্তিরূপা- দুষ্টের বিনাশকারী দেবী ॐ卐 দূর্গার ॐ卐 সাথে তুলনা করা হয়েছে। ●●ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪ ১৯০৭ সালে ভিখাজি কামা (১৮৬১– ১৯৩৬) ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার যে রূপদান করেছিলেন, তার মাঝের ব্যান্ডে দেবনাগরী হরফে "বন্দে মাতরম্ " ধ্বনিটি খোদিত ছিল।"বন্দেমাতরম" ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়। প্রথমে কলকাতা মহানগরীতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক সমাবেশে "বন্দেমাতরম " ধ্বনি দেওয়া শুরু হয়। এই ধ্বনির তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভীত হয়ে একবার ব্রিটিশ সরকার জনসমক্ষে এই ধ্বনি উচ্চারণ নিষিদ্ধ করে দেয়; এই সময় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী "বন্দেমাতরম " ধ্বনি দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৮৯৬ সালে বিডন স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পাঁচ বছর বাদে ১৯০১ সালের কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেন দক্ষিণাচরণ সেন। ১৯০৫ সালে কংগ্রেসের বারাণসী অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন সরলা দেবী চৌধুরাণী । লালা লাজপত রাই লাহোর থেকে বন্দে মাতরম নামক একটি সাময়িকপত্র প্রকাশ করতেন।১৯০৫ সালে হীরালাল সেন ভারতের প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন; এই চলচ্চিত্রের সমাপ্তি হয়েছিল গানটির মাধ্যমে। ব্রিটিশ পুলিশের হাতে নিহত হওয়ার আগে মাতঙ্গিনী হাজরার শেষ উচ্চারিত শব্দ ছিল "বন্দেমাতরম "। ●●●●উল্লেখ্য--------- একাধিক ভারতীয় মুসলিম সংগঠন বন্দে মাতরম্ গাওয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে। তাদের মতে, ভারতমাতার বন্দনাগীতি এই গানটির মূলভাবনা ইসলাম-নিষিদ্ধ পৌত্তলিকতার অনুসারী।তৎকালীনঅবিভক্ত ভারতে তাদের কাছে ভারত মাতার বন্দনার চেয়েও বেশী গুরুত্ব পেত নিজের ধর্ম ও ভারত ভাগ। ●●২০০২ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দশটি জনপ্রিয় গান নির্বাচনের একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা চালায় ৭০০০ গানের মধ্যে থেকে এ আর রহমান সুরারোপিত বন্দে মাতরম্ গানটি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয়তম গান নির্বাচিত হয়।বাংলাদেশী ইসলামপন্থী পেজে এ আর রহমান কে "পথভ্রষ্ট মুসলিম" আখ্যা দেওয়া হয়। ॐ卐সত্যের জয় হবেॐ卐

No comments:

Post a Comment