♡♡♡♡♡জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে♡♡ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভারতের জাতীয় সংগীত। রচনাকাল -অজ্ঞাত। ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় আয়োজিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৬তম অধিবেশনে প্রথম গীত হয়। গানটি গাওয়া হয়েছিল সমবেতকণ্ঠে। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর নেতৃত্বে গানের রিহার্সাল হয়েছিল ডক্টর নীলরতন সরকারের হ্যারিসন রোডস্থ (বর্তমানে মহাত্মা গান্ধী রোড) বাসভবনে। পরদিন দ্য বেঙ্গলি পত্রিকায় গানটির ইংরেজি অনুবাদসহ এই সংবাদের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসের (মাঘ, ১৩১৮) তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় ব্রহ্মসংগীত আখ্যায় গানটি প্রকাশিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৫ জুলাই গানটি আজাদ হিন্দ ফৌজের জাতীয় সংগীত রূপে গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গানটি সদ্যস্বাধীন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত রূপে গৃহীত হয়। গানটি ইমন রাগে কাহারবা তালে নিবদ্ধ। স্বরলিপিকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বরলিপি মুদ্রিত রয়েছে স্বরবিতান ১৬-এ। মোট পাঁচটি স্তবকের মধ্যে প্রথম স্তবকটিই জাতীয় সংগীতরূপে গীত হয়।
জাতীয় সঙ্গীতের অর্থ বোঝাবার চেষ্টা করছি ভালো/খারাপ লাগলে জানিও-------
●জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা--- ☆ জনগনের কর্মকান্ডে দেশের ভাগ্যের উন্নতি হবে।
●পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ-----☆পাঞ্জাব,সিন্ধু,গুজরাট,মারাঠা,দক্ষিনভারত,উড়িষ্যা,বঙ্গ প্রদেশ এর মানুষদের হৃদয়ে এই ধ্বনি জাগ্রত হবে।
●বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ-------☆বিন্ধ্য,হিমাচল পাহাড়ে এর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে।যমুনা-গঙ্গার প্রবাহের সাথেও মিশ্রিত হবে এই ধ্বনি।সমুদ্রের জল এই ধ্বনির আওয়াজে উদ্বেলিত হবে ।
● তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে,-----------☆তোমার(ভারতমাতা) আর্শীর্বাদে এ জাগরণ শুভ হবে।
● গাহে তব জয়গাথা।--------☆তোমার জয়গান তারা গাইবে ।
● জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!-----------☆জনগনের মঙ্গলময় চিন্তার জন্য ভারতের ভাগ্যের উন্নতি হবে।
● জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।--------☆জয়হবে,জয় হবে,জয় হবে,জয় জয় জয় জয় হবেই।
■■■■■উল্লেখ্য এটি বাংলা ভাষায় রচিত।অর্থকে হিন্দীর সাথে মেশানো ভুল হবে।জনগনমন অর্থে কবি জনগনের জাগরন আর অধিনায়ক অর্থে অধীনতা থেকে এক হওয়া বা স্বাধীন হওয়া কে বুঝিয়েছেন।
■■■■■■রটনা■■■■■■■■■■■■■■প্রকৃতপক্ষে গানটি লেখা হয়েছিল ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারের কিছুদিন আগে। এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিল সেই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে। সেই দিনের এজেন্ডা ছিল রাজা পঞ্চম জর্জকে একটু আনুগত্যমূলক স্বাগত জানানোর প্রস্তাবনা। রাজার সম্মানে সেদিন হিন্দিতে রামভূজ চৌধুরীর একটি গান গাওয়া হয়। আবার সেই দিনই রবীন্দ্রনাথের মত এক বিশিষ্ট ব্যক্তির গান অনুষ্ঠানে গীত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের ভুলে একটি ভ্রান্ত খবর প্রচারিত হয় যে রবীন্দ্রনাথের গানটিও সম্রাটের প্রতি সম্মানার্থে রচিত হয়েছে। পরদিনের ইংরেজি সংবাদপত্রগুলিতেএই সংবাদ প্রচারিতও হয়ঃ “বাঙালি কবি বাবু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষত সম্রাটকে স্বাগত জানিয়ে একটি গান রচনা করেছেন।”স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্রবিরোধীগণ প্রচার করতে থাকেন যে গানটি আসলে সম্রাটের বন্দনাগান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই সংবাদপত্রগুলির একটি কয়েকটি বন্দেমাতরম রবীন্দ্রনাথের রচিত ও জনগণমন -কে হিন্দি গান আখ্যাও দিয়েছিল।
সত্যতা•••••••••••••• প্রকৃত ঘটনা জানা যায় ১৯৩৭ সালের ২০ নভেম্বর বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী পুলিনবিহারী সেনকে লেখা রবীন্দ্রনাথের একটি চিঠি থেকেঃ------- “ “...সে বৎসর ভারতসম্রাটের আগমনের আয়োজন চলছিল। রাজসরকারে প্রতিষ্ঠাবান আমার কোনও বন্ধু সম্রাটের জয়গান রচনার জন্যে আমাকে বিশেষ করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হয়েছিলুম, সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মনে উত্তাপেরও সঞ্চার হয়েছিল। তারই প্রবল প্রতিক্রিয়ার ধাক্কায় আমি জনগণমন-অধিনায়কগানে সেই ভারতভাগ্যবিধাতার জয় ঘোষণা করেছি, পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থায় যুগ যুগ ধাবিত যাত্রীদের যিনি চিরসারথি, যিনি জনগণের অন্তর্যামী পথপরিচায়ক, সেই যুগযুগান্তরের মানবভাগ্যরথচালকযে পঞ্চম বা ষষ্ঠ কোনো জর্জই কোনক্রমেই হতে পারেন না সে কথা রাজভক্ত বন্ধুও অনুভব করেছিলেন।..."------
●●●■■■■■■■■■জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে মন্তব্য--------
ॐॐনেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (আরজি হুকুমৎ-এ-হিন্দ-এর নির্দেশনামা) “ রবীন্দ্রনাথের গান জয়-হে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হল।卐卐
●●আনন্দমোহন সহায়, সেক্রেটারি, আরজি হুকুমৎ-এ-হিন্দ --------“ অনেক উচ্চশিক্ষিত জাপানি স্বীকার করেন যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের জাতীয় সংগীতকেও পিছনে ফেলে দেয়। বিভিন্ন সময়ে জনসমক্ষেই তাঁরা একথা বলেছেন। নেতাজি আমাকে বলেছিলেন, জার্মানরা, যারা তাদের নিজেদের জাতীয় সংগীতকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতীয় সঙ্গীত মনে করত, তারাও বেশি কিছু না হলেও, তাঁর কাছে মুক্তকণ্ঠেই স্বীকার করেছিল যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত তাদেরটির মতোই উদ্দীপক।
●● জেমস এইচ কাজিনস ---------“ আমার প্রস্তাব হল, ডক্টর রবীন্দ্রনাথের গভীর দেশাত্মবোধক, আদর্শ প্রণোদিত এবং একই সঙ্গে বিশ্বাত্মবোধক মর্নিং সং অব ইন্ডিয়া ( জনগণমন ), যা বিগত কুড়ি বছর বেসরকারিভাবে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত, তাকেই সরকারিভাবে অনুমোদন করা হোক।
●● মহাত্মা গান্ধী------------- “ জনগণমন শুধু একটি গানমাত্র নয়, এটি একটি “দিব্য স্তোত্র”। এটি চরিত্রে স্বতন্ত্রভাবেই জাতীয়। এর “গায়নযোগ্যতা”-ও আছে।
ॐ卐সত্যের জয় হোকॐ卐
No comments:
Post a Comment