এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ১১ আমি বলি, ‘মহাশয়েরা, আপনারা কেমন আছেন, তা দেখতে এলাম; ভালো আছেন সবাই?’ একেকজন ভয়ে ভয়ে বলে, ‘সেইটা আমাদের ভাইগ্য, আপনেরা আমাগো বাড়িতে আসবেন, কোনোদিন চিন্তা করতেও পারি না, আপনাগো পায়ের ধুলায় আমাগো বাড়ি পবিত্র হইল।’ আমাদের অনেকের জামার ভিতর থেকে নানা রকমের শান্তিপ্রদ জিনিশ উঁকি দিচ্ছিলো- দু-একটা পিস্তল, দু-একটা কাটা রাইফেল, দু-চারটি ক্ষুর, কয়েকটি এম-১৬ আর বেশি না। একেকজন বলে, ‘আপনেরা কষ্ট কইর্যা আসছেন, কি দিয়া যে আপনাগো আপ্যায়ন করি। একটু চা দেই।’ দু-চারটি মালাউন(হিন্দু) বউ মেয়ে দেখার ইচ্ছে আমাদের সবারই ছিল। আগে থেকে দেখে রাখলে পরে কাজ দেবে। আমি বলি, ‘তালিকায় ২৫ নম্বরে আছেন শ্রীমতি পদ্মাবতী দেবী, তার সাথে কি একটু কথা বলতে পারি?’ পদ্মাবতী দেবী আমাদের সামনে আসেন, আমরা দেখি বেশ ভালো। আমি বলি, ‘আপনার পিতার নাম কৃষ্ণচন্দ্র দাস?’ পদ্মাবতী দেবী খুবই লজ্জা পান, তার লজ্জা পাওয়াটা দেখার মতো, কিন্তু তখনও ভালো করে দেখার সময় আসেনি। তিনি সলজ্জভাবে বলেন, ‘অইটা ভুল অইছে, অইটা আমার স্বামীর নাম।’ আমি জাই পিতার জাউগায় স্বামী, আর স্বামীর জায়গায় পিতার নাম বসানো আমাদের নির্বাচন কমিশনের একটি বড়ো কৃতিত্ব। তারা আজও পিতা আর স্বামীর পার্থক্য বোঝে না; তবে দল বোঝে, দালালি বোঝে, ক্ষমতা বোঝে, আর কারা ক্ষমতায় সবে তাও বোঝে। আমি বলি, ‘এই জন্য আমরা ক্ষমা চাই, মাফ কররে দেবেন। আপনারা ভোট দবেন কোন দল কে?’ পদ্মাবতী চালাক মাল, বলেন, ‘আপনাগো দলেরই দিমু’। আমি বলি, ‘তাহলে তো আপনার ভোট পেয়েই গেলাম, কষ্ট করে আর আপনার ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নেই’। পদ্মাবতী দেবী বলেন, ‘হুজুর, অনেক কষ্ট থিকা বাচাই দিলেন, লাইনে দাড়াইতে দাড়াইতে মাজা বেদনা অইয়া যায়; তার উপর আমার এখন আটমাস চলতেছে, হাডতেই পারি না’। আমার এক জিহাদি হতাশ হয়, পদ্মাবতীকে তার পছন্দ হয়েছিল, কিন্তু মাগিটা আট মাস বাঁধিয়ে বসেছে, আট মাসের পেটের উপর চড়তে পারবে কি না বুঝতে পারে না; আররেক জিহাদি খুশি হয়, আট মাসের পেটের উপর চড়তে কেমন লাগে তা সে দেখতে চায়। দেখার সময় আসতে আসতে পদ্মাবতীর সাড়ে আট মাস হয়ে যবে। এটা একটা সুন্দর জিনিশ; কেউ খাল্লি পেট পছন্দ করে, কেউ ভরা পেট পছন্দ করে; আল্লার দুমিয়ায় বৈচিত্রের শেষ নাই।
No comments:
Post a Comment